লেখায় যান
ওয়েটলিস্টে যোগ দিন

bKash ও Nagad দিয়ে ক্রিয়েটর পেমেন্ট নেওয়ার গাইড

বাংলাদেশে কোনো ফ্যান আপনাকে টাকা পাঠাতে চাইলে আগে পকেট থেকে ফোন বের করেন, কার্ড না। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দেশে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ছিল ২৩ কোটি ৯৩ লাখ, আর ওই এক মাসেই লেনদেন হয়েছে প্রায় ১.৭২ লাখ কোটি টাকা। কার্ডও বাড়ছে: ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ কার্ডে ই-কমার্স লেনদেন ছিল প্রায় ২,০৩৫ কোটি টাকা, আগের বছরের চেয়ে ২৩.৬% বেশি। তবু ই-ক্যাব নিজেই বলছে, অনলাইন কেনাকাটায় এখনো ক্যাশ অন ডেলিভারিই বেশি চলে। তাই ফ্যানের কাছ থেকে টাকা নিতে চাইলে bKash আর Nagad বাদ দেওয়ার উপায় নেই।

এখানে দুই দিকই আছে: ফ্যান কীভাবে পেমেন্ট করেন, আর সেই টাকা কীভাবে আপনার নিজের bKash, Nagad, Rocket বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আসে।

ফ্যানের দিক থেকে: পেমেন্ট কীভাবে হয়

ফ্যানের দিক থেকে: পেমেন্ট কীভাবে হয় অংশে যান

আপনার প্রোফাইল লিংকে ঢুকে ফ্যান ঠিক করেন কী করবেন: কয়েক কাপ কফি পাঠাবেন, মেম্বারশিপ নেবেন, একটা পেইড পোস্ট কিনবেন, নাকি শপ থেকে কিছু অর্ডার করবেন। চেকআউটে পেমেন্টের অপশনগুলো আসে, আর তিনি নিজের চেনাটা বেছে নেন।

  • bKash, Nagad, Rocket: নিজের ওয়ালেট নম্বর, OTP আর PIN দিয়ে পেমেন্ট, ঠিক যেভাবে মোবাইল রিচার্জ বা বিল দেন।
  • ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড (Visa/Mastercard): দেশের কার্ডেই চলে, কারণ দাম টাকায়।

পেমেন্ট যায় SSLCommerz আর aamarPay-এর মতো বাংলাদেশি পেমেন্ট গেটওয়ে দিয়ে। ফ্যানের কার্ড নম্বর বা ওয়ালেটের PIN আপনার কাছেও থাকে না, আমাদের কাছেও না। কফি গিফট পাঠাতে ফ্যানকে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় না। তবে অ্যাকাউন্ট থাকলে কবে কী পেমেন্ট করেছেন আর কী কী কিনেছেন, সব এক জায়গায় পান।

পেমেন্ট না হলে কোনো টাকা কাটে না, আপনার আয়েও কিছু যোগ হয় না। ফ্যান চাইলে আবার চেষ্টা করতে পারেন।

নিজের নম্বর দেওয়ার চেয়ে এটা ভালো কেন

নিজের নম্বর দেওয়ার চেয়ে এটা ভালো কেন অংশে যান

অনেক পেজ এখনো পোস্টের নিচে লিখে দেয়, “সাপোর্ট করতে চাইলে এই নম্বরে বিকাশ করুন”। শুরুতে এতে কাজ চলে, কিন্তু পরে তিনটা সমস্যা দেখা দেয়।

এক, হিসাব। কোন টাকাটা কোন ফ্যান পাঠালেন, কোনটা আসলে বাসার কেউ পাঠাল, বছর শেষে মোট কত হলো, এসব আলাদা করা প্রায় অসম্ভব। প্ল্যাটফর্মে প্রতিটা পেমেন্টের সাথে সাপোর্টারের নাম আর মেসেজ থাকে, আর লেনদেন অংশ থেকে পুরো হিসাব CSV ফাইলে নামানো যায়।

দুই, নিরাপত্তা। নিজের নম্বর পাবলিক করলেই প্রতারকের কল আর “ভুল করে টাকা চলে গেছে, ফেরত দিন” ধরনের মেসেজ আসা শুরু হয়। bKash নিজেও বারবার বলে, PIN বা OTP কাউকে বলবেন না।

তিন, কী কী করা যায়। নিজের নম্বরে শুধু টিপস নেওয়া যায়। মাসিক মেম্বারশিপ চালানো, পেইড পোস্ট আনলক করা বা ডিজিটাল ফাইল নিজে থেকে পাঠানো যায় না।

আপনার দিক থেকে: টাকা তোলার ধাপগুলো

আপনার দিক থেকে: টাকা তোলার ধাপগুলো অংশে যান
  1. পরিচয় ভেরিফাই (KYC) করুন

    বাংলাদেশি NID-র সামনে আর পেছনের পরিষ্কার ছবি, আর ক্যামেরায় তোলা একটা সেলফি জমা দিন। এটা একবারই করতে হয়। অ্যাপ্রুভ হলে প্রোফাইলে ভেরিফায়েড ব্যাজও বসে যায়।

  2. পেআউট মেথড যোগ করুন

    ইনকাম থেকে পেআউট সেটিংস খুলে 'পেআউট মেথড যোগ করুন' চাপুন। মোবাইল ব্যাংকিং হলে প্রোভাইডার, অ্যাকাউন্ট টাইপ, নম্বর আর নাম দিন। ব্যাংক হলে ব্যাংক, শাখা, অ্যাকাউন্টের নাম, নম্বর আর রাউটিং নম্বর দিন।

  3. কত তুলবেন লিখুন

    'টাকা তুলুন' চাপলে কত ব্যালেন্স আছে দেখাবে। কমপক্ষে ৳৫০০ থেকে পুরো ব্যালেন্স পর্যন্ত যেকোনো অঙ্ক লিখতে পারেন।

  4. অ্যাকাউন্ট বেছে কনফার্ম করুন

    কোন অ্যাকাউন্টে টাকা যাবে বেছে নিন, তথ্যগুলো মিলিয়ে দেখে কনফার্ম করুন।

  5. স্ট্যাটাস দেখুন

    রিকোয়েস্ট প্রথমে অ্যাপ্রুভ হয়, তারপর প্রসেস হয়, শেষে টাকা চলে যায়। কোনো কারণে আটকে গেলে রিজেক্ট বা পেমেন্ট হয়নি দেখাবে, আর টাকা আবার আপনার ব্যালেন্সে ফিরে আসবে।

পরিচয় ভেরিফাই কেন লাগে, সেটাও জেনে রাখুন। বাংলাদেশ ব্যাংক আর বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (BFIU) নির্দেশনা আর মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন মানতে প্রত্যেক ক্রিয়েটরের পরিচয় ভেরিফাই করতে হয়। কাগজ জমা দেওয়ার পর আমরা রিভিউ করি। তারপর অ্যাপ্রুভ বা রিজেক্ট হয়, অথবা আবার জমা দিতে বলি। অ্যাপ্রুভ হতে কতদিন লাগবে, তার কোনো বাঁধা সময় নেই। তাই প্রথমবার টাকা তোলার অনেক আগেই এটা সেরে রাখুন। বিস্তারিত: আইডেন্টিটি ভেরিফিকেশন।

কোথায় কত সময় লাগে কার জন্য ভালো
bKash কর্মদিবসের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঠানো হয় টাকা তাড়াতাড়ি দরকার, মাসের অঙ্ক কম বা মাঝারি
Nagad কর্মদিবসের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঠানো হয় Nagad-ই আপনার মূল ওয়ালেট
Rocket কর্মদিবসের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঠানো হয় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের Rocket-ই আপনার মূল ওয়ালেট
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট একই সময়ে পাঠানো হয়, তারপর আরও ২–৩ কর্মদিবস বড় অঙ্ক, সঞ্চয়, বা ট্যাক্সের জন্য পরিষ্কার হিসাব

আমাদের দিক থেকেও দিনে বা মাসে কত তোলা যাবে, তার লিমিট থাকতে পারে। লিমিটে পৌঁছালে অ্যাপেই জানিয়ে দেওয়া হয়, আর পরের দিন বা পরের মাসে আবার তুলতে পারেন।

অনেকে একটা জিনিস দেরিতে টের পান: ২৪ ঘণ্টা গোনা হয় শুধু কর্মদিবসে, মানে ঢাকার সময়ে রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার, সরকারি আর ব্যাংক ছুটি বাদে। শুক্রবার রিকোয়েস্ট দিলে গোনা শুরু হয় রবিবার থেকে, আর ঈদের লম্বা ছুটিতে গোনা থেমে থাকে। ঈদ বা জরুরি কোনো খরচের জন্য টাকা লাগলে কয়েক কর্মদিবস আগেই তুলে রাখুন।

ফি কত কাটে: পুরো একটা হিসাব

ফি কত কাটে: পুরো একটা হিসাব অংশে যান

৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত প্রত্যেক ক্রিয়েটর সব সার্ভিসে একই ৩.৫% লঞ্চ রেটে প্ল্যাটফর্ম ফি দেন, পেমেন্ট গেটওয়ের খরচও এর মধ্যে। ধরা যাক, রাজশাহীর একজন আঁকিয়ে এক মাসে পেলেন:

কোথা থেকে মোট
১৫৫ কাপ কফি, প্রতি কাপ ৳২০ ৳৩,১০০
১৮ জন মেম্বার, প্রতিজন ৳১৯৯ ৳৩,৫৮২
১১টা ব্রাশ প্যাক, প্রতিটা ৳২৫০ ৳২,৭৫০
মোট ৳৯,৪৩২

লঞ্চ রেটে প্ল্যাটফর্ম ফি ৳৩৩০.১২, তাই ব্যালেন্সে জমা হয় ৳৯,১০১.৮৮। এর থেকে ৳৯,০০০ তিনি bKash-এ তুলে নিতে পারেন, বাকিটা পরের মাসের ব্যালেন্সে যোগ হবে। ইনকাম অংশে প্রতিটা পেমেন্টের মোট অঙ্ক, ফি আর হাতে কত থাকল, আলাদা করে দেখা যায়। লঞ্চ রেট শেষ হলে ফি নির্ভর করবে সার্ভিস আর আগের মাসে কত টাকার লেনদেন হলো তার ওপর। রেট কার্ড আছে প্রাইসিং পেজে।

ট্রেড লাইসেন্স আর ট্যাক্স

ট্রেড লাইসেন্স আর ট্যাক্স অংশে যান

কফি গিফট নিতে, মেম্বারশিপ চালাতে বা টাকা তুলতে হবে নাকি Coffee? কোনো ট্রেড লাইসেন্স চায় না, শুধু পরিচয় ভেরিফাই লাগে। তার মানে অবশ্য এই না যে আয়ে ট্যাক্স নেই। বাজেট ২০২৫-২৬ অনুযায়ী একজন মানুষের করমুক্ত আয়সীমা ৳৩,৫০,০০০, যেটা ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ৳৩,৭৫,০০০ হওয়ার কথা। বছরে সব মিলিয়ে এর বেশি আয় হলে রিটার্ন দিতে হবে। ট্যাক্স নিয়ে কিছু ঠিক করার আগে একজন কর আইনজীবীর সাথে কথা বলুন, আর তাকে দেখাতে লেনদেন অংশ থেকে নামানো CSV হাতে রাখুন।

যা অনেকে জানতে চান

যা অনেকে জানতে চান অংশে যান
কমপক্ষে কত টাকা হলে তোলা যায়?

কমপক্ষে ৳৫০০। এর কম থাকলে ব্যালেন্সে জমা থাকে। আয়ের টাকার কোনো মেয়াদ নেই।

bKash-এ টাকা আসতে কত সময় লাগে?

রিকোয়েস্ট দেওয়ার পর bKash, Nagad বা Rocket-এ কর্মদিবসের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা টাকা পাঠিয়ে দিই। ঢাকার সময়ে রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার গোনা হয়, ছুটির দিন বাদে। ব্যাংক ট্রান্সফারে অ্যাকাউন্টে পৌঁছাতে আরও ২–৩ কর্মদিবস লাগে।

পরিচয় ভেরিফাই না করে কি পেমেন্ট নেওয়া যায়?

হ্যাঁ। প্রোফাইল বানানো আর ফ্যানদের কাছ থেকে পেমেন্ট নেওয়া ভেরিফাই ছাড়াই শুরু করা যায়। শুধু পেআউট মেথড যোগ করা আর টাকা তোলার আগে NID আর সেলফি দিয়ে পরিচয় ভেরিফাই করতে হয়।

পার্সোনাল নাকি এজেন্ট, কোন bKash অ্যাকাউন্ট দেব?

মোবাইল ব্যাংকিং যোগ করার সময় অ্যাকাউন্ট টাইপ (পার্সোনাল বা এজেন্ট) বেছে নিতে হয়। নিজের নামে খোলা পার্সোনাল অ্যাকাউন্ট দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। অন্যের নম্বর দিলে টাকা নিয়ে ঝামেলা হলে মেটানো কঠিন।

ফ্যানের পেমেন্ট না হলে কী হয়?

ফ্যানের অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো টাকা কাটে না, আপনার আয়েও কিছু যোগ হয় না। ফ্যান আবার চেষ্টা করতে পারেন। সমস্যা না মিটলে সাপোর্টে যোগাযোগ করুন।

এখনো শুরু না করলে আগে লগইন করুন, তারপর কফি গিফট চালু করুন। প্রথম পেমেন্ট পাওয়ার সবচেয়ে ছোট রাস্তা ওটাই। পেআউটের সব শর্ত আছে ক্রিয়েটর অ্যাগ্রিমেন্টে, আর আয়ের অন্য রাস্তাগুলো বাংলাদেশে ক্রিয়েটরদের আয়ের গাইডে।

  1. এক বছরে MFS অ্যাকাউন্ট বেড়েছে ২ কোটি, লেনদেন বেড়েছে ৩২%, The Financial Express, ২৩ মার্চ ২০২৫। বাংলাদেশ ব্যাংকের MFS অ্যাকাউন্ট আর লেনদেনের তথ্য।
  2. MFS লেনদেনের সীমা নতুন করে ঠিক: দিনে সর্বোচ্চ ক্যাশ-ইন ৳৫০,০০০, ক্যাশ-আউট ৳৩০,০০০, The Business Standard। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২৭ মার্চ ২০২৫-এর MFS লেনদেন সীমার সার্কুলার।
  3. মো. সায়েদ আলী, নীতি তাল মেলালে ই-কমার্সই হতে পারে বাংলাদেশের পরের প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন, The Daily Star, ২৫ আগস্ট ২০২৫। কার্ডে ই-কমার্স লেনদেন।
  4. বাজেটের টুকরো খবর, বাংলাদেশ বাজেট ২০২৫-২৬, The Daily Star, ২ জুন ২০২৫। ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা।
  5. হবে নাকি Coffee? প্রাইসিং, আইডেন্টিটি ভেরিফিকেশন আর ক্রিয়েটর অ্যাগ্রিমেন্ট।

পেজটা কি কাজে লেগেছে?

নিচের বাটনে চাপ দিয়ে জানান। লগইন করতে হবে না।