আমাদের গল্প
প্রিয় ক্রিয়েটর,
আপনার সাথে একটা সত্যি কথা দিয়েই শুরু করি। আমরা কখনোই কোনো টেক কোম্পানি দাঁড় করানোর স্বপ্ন দেখিনি।
এর শুরুটা ছিল আরও নিরিবিলি এক অনুভূতি থেকে। বছরের পর বছর আমরা দেখেছি আমাদের চেনা সবচেয়ে মেধাবী মানুষগুলোকে — প্রতিবেশী, সহপাঠী, ইন্টারনেটে চেনা-অচেনা মুখ — একটু একটু করে হাল ছেড়ে দিতে। তাঁদের কাজ খারাপ বলে নয়। কাজ ছিল দারুণ। কিন্তু এই বাংলাদেশে বসে সেই কাজ থেকে দু'বেলা ভাত জোগাড় করাটাই যেন ছিল প্রায় অসম্ভব।
এই কষ্টটা আমরা চিনি। আপনি আপনার কোড, ডিজাইন, লেখা, আর্ট কিংবা গানের ভেতর নিজেকে পুরোটা উজাড় করে দেন। সবাই ঘুমিয়ে পড়ার অনেক পরেও জেগে থেকে এমন সব খুঁটিনাটি ঠিক করেন যা হয়তো কারও চোখেও পড়বে না — শুধু এই কারণে যে, কাজটা আপনার হৃদয়ের খুব কাছের।
তারপর আসত সবচেয়ে কঠিন অংশটা — কাজটা সবার সামনে আনা, আর তার বিনিময়ে একটু সম্মান বা সাপোর্ট পাওয়া। আমরা যত মাধ্যম খুঁজে পেতাম, প্রতিটাই যেন সাহায্যের বদলে উল্টো পথ আটকে দাঁড়াত। জটিল সব নিয়ম, লুকানো খরচ, আর এমন পেমেন্ট দেয়াল — যা আমরা কোথায় থাকি, তা বোঝার চেষ্টাও করত না।
একদিন অন্য কারও ঠিক করে দেওয়ার অপেক্ষায় থাকতে থাকতে আমরা ক্লান্ত হয়ে গেলাম। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম, নিজেরাই বানাব।
এই সিদ্ধান্তটা কিন্তু একদিনে আসেনি। ইচ্ছে হলে বলি, বছরগুলো আসলে কেমন করে কেটেছে —
- 2021
প্রথম অনুভূতি
তখন এর কোনো নাম ছিল না, কোনো পরিকল্পনা ছিল না, কোনো প্রোডাক্টও ছিল না। মনের ভেতর শুধু একটা জেদ কাজ করত, যা কিছুতেই সরছিল না — আমাদের চেনা, ভালোবাসার মানুষগুলো এভাবে হাল ছেড়ে দিতে পারে না।
- 2023
প্রথম বিশ্বাস
তারপর একদিন সত্যিই কিছু একটা ঘটল। হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ আমাদের ওপর ভরসা করে তাঁদের সবচেয়ে যত্নের জিনিসটা তুলে দিলেন — নিজেদের কাজ, নিজেদের নাম, নিজেদের স্বপ্ন। শেষ পর্যন্ত যাঁরা থেকে গেলেন, সবাই একই কথা বললেন — এটা বানিয়ে ভালোই করেছি আমরা।
- 2024
কাজের বছর
তারপর শুরু হলো আসল খাটুনি। কত রাত না ঘুমিয়ে কেটেছে, কতবার ভুল পথে হেঁটে আবার গোড়া থেকে শুরু করেছি, চোখের আড়ালে কতবার সব ভেঙে নতুন করে সাজিয়েছি — এই হিসাব আমরা ছাড়া আর কেউ জানে না। এই বছরেই স্বপ্নটা এমন একটা আকার পেল, যাকে সত্যিই হাত দিয়ে ছোঁয়া যায়।
- 2026
দরজা খোলার পালা
আর এখন আমরা এখানে — সবার জন্য দরজাটা খোলার আগে শেষ কাজগুলো গুছিয়ে নিচ্ছি। শুরুতে যে দরজাটা ধরে রাখার কথা দিয়েছিলাম, সেটাই। এই পথচলা এখনো শেষ হয়নি। আসলে, কোনোদিন শেষ হবেও না।
হবে নাকি Coffee? কখনোই কোনো কর্পোরেট মধ্যস্থতাকারী হতে চায়নি। একে ভাবুন আপনার ভালোবাসার কাজ আর সেই কাজকে যাঁরা ভালোবাসেন — তাঁদের মাঝখানের ছোট্ট, উষ্ণ একটা সেতু হিসেবে। ব্যাস, এটুকুই। আর এটুকুই সবকিছু।
কারণ কেউ যখন আপনাকে এক কাপ কফি খাওয়ান, সেটা আসলে কখনোই কফি কিংবা টাকার গল্প নয়। এটা ছোট্ট, নিঃশব্দ একটা উপায় — যা দিয়ে কেউ এমন কিছু বলতে চান, যা আমরা মুখ ফুটে খুব একটা বলি না:
“আমি দেখি আপনি কতটা পরিশ্রম করেন। আর আপনার কাজটা আমার দিনটাকে একটু হলেও সুন্দর করেছে।”
এই ছোট্ট মুহূর্তটাকে সহজ করে দিতেই আমরা আছি। কোনো লুকানো খরচ আপনার সাপোর্টে ভাগ বসাবে না। নিজে কোম্পানি খোলা বা পেমেন্ট গেটওয়ে সেটআপ করার ঝামেলা নেই — ওই দিকটা আমরা দেখি। আপনাকে শুধু একটা লিংক শেয়ার করতে হবে।
আমাদের লক্ষ্যটা খুব সহজ, আর একটু জেদিও বটে: এই দেশের কাউকে যেন শুধু টিকে থাকার জন্য নিজের প্রতিভাটা ছেড়ে দিতে না হয়।
আপনার একটাই কাজ — যা ভালোবাসেন, তা করে যাওয়া। আর সেই পথচলায় ঘরের আলোটা জ্বালিয়ে রাখার দায়িত্বটুকু আমাদের।
তাই অনুরোধ করি, থেমে যাবেন না। এমন কিছু বানিয়ে যান যা কেবল আপনিই বানাতে পারেন। আমরা ঠিক এখানেই আছি, আপনার জন্য দরজাটা খুলে রেখে।
পুনশ্চ — যখনই মনে হবে আপনার কাজের কোনো মূল্য নেই, আবার ফিরে এসে এই চিঠিটা পড়বেন। প্রতিটি শব্দ আমরা মন থেকে লিখেছি।
খুব শিগগিরই দরজা খুলছি। নিচে ইমেইলটা দিয়ে রাখুন, সবার আগে আপনিই জানবেন।
ওয়েটলিস্টে যোগ দিন